আজ , ।   

আদালতের আদেশ অমান্য করে ধামরাইয়ে জমি দখল ও সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ

আরো খবর

কবির হোসেন জমাদার, ক্রাইম রিপোর্টার

ঢাকার ধামরাইয়ে বিজ্ঞ আদালতের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তিতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, জমি দখল, সাইনবোর্ড টাঙানো এবং অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কাইয়ুম খান নামে এক ব্যক্তির ইন্ধনে বিবাদী পক্ষ এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার দ্বিমুখা মৌজার এসএ ৭১ নং খতিয়ানের ১২৭ দাগ এবং আরএস ২৭২ নং খতিয়ানের ১৫৬ ও ১৫৭ নং দাগের মোট ১১১ শতাংশ ভূমির মধ্যে ২১ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। কানন নেহার ও মাসুদ আক্তার খানমের পক্ষে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারপ্রাপ্ত) সবুজ খান জানান, উক্ত জমি তারা পৈতৃক ও ওয়ারিশ সূত্রে লাভ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন।

উক্ত জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধামরাই আদালত, ঢাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং- ২৮৯/২০২৬) দায়ের করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে বিবাদী পক্ষ জবরদখলের উদ্দেশ্যে জমিতে প্রবেশ করে। সেখানে মামলাধীন ২১ শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমির ভেতরের ১২ শতাংশ জমিতে তারা রাতারাতি নিজেদের মালিকানা দাবি করে একটি নতুন সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে রড, ইট ও বালুসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী এনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাদীপক্ষকে তাদের নিজস্ব স্বত্বদখলীয় সীমানায় প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

মামলার আমমোক্তার সবুজ খান জানান, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কাইয়ুম খান ও বিবাদী পক্ষ বেআইনিভাবে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ২৫ জুন রাতেও বিবাদীরা ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তাদের নির্মিত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ও টিনের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত কাইয়ুম খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখল ও উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং বিরোধপূর্ণ জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

- Advertisement -
- Advertisement -