আজ , ।   

কিশোর গ্যাং নির্মূলে নতুন পরিকল্পনা, মূলহোতাদের ধরতে চায় এসআরবি

আরো খবর

বিশেষ প্রতিবেদক :

কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেফতার করলেই স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান। তিনি বলেন, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে এমন গ্রুপ গড়ে ওঠা ঠেকাতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। পরে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-২-এর অধিনায়ক জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সামুরাই উদ্ধার করা হয়। পরে তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছিল। আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।

এতদিন আরমান কোথায় ছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও আরমান ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন। আশপাশের এলাকাতেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি বলেন, আরমানকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় সাব্বির ও সোহেলসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

আইনের ফাঁক দিয়ে আসামিরা বারবার বেরিয়ে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নায়মুল হাসান বলেন, তারা প্রত্যাশা করছেন, এবার যেন আরমান আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারেন।

কিশোর গ্যাং নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেফতার করলে গ্রুপগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের গ্রেফতার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশলের অংশ।

নায়মুল হাসান বলেন, “আপনি যদি শর্টকাট সলিউশন চান, এটা ভুল হবে। এ ধরনের গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যেন বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে এসআরবি-২-এর গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। খুব শিগগির এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর আরও বিস্তৃতভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -