আজ , ।   

সাপে কাটা তারিফের মৃ*ত্যু: সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম, তবু কেন রেফার

আরো খবর

মামুন আহমেদ জয় : ঢাকার ধামরাইয়ে বিষাক্ত সাপের কামড়ে তারিফ নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে সাপে কামড়ানোর পর তাকে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর সাভার ও ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও রোগী রেফার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহত তারিফ ধামরাইয়ের বাঠুলিয়া গ্রামের মো. সুমনের ছেলে। সে কালামপুর জনতা মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাপে কামড়ানোর পর গুরুতর অবস্থায় তারিফকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে অ্যান্টিভেনম থাকার পরও তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার মধ্যেই চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরও প্রায় দুই ঘণ্টা চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। পরে তারিফের বাবা সুমনের পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় চিকিৎসার ব্যবস্থা শুরু হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মারা যায় তারিফ।

তবে রোগীকে রেফার করার বিষয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আহমিদুল হক তিতাস পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন।

ডা. তিতাস বলেন, রোগীর রক্ত পরীক্ষায় রক্ত জমাট বাঁধার (ক্লট) বিষয়টি পাওয়া যায়নি। রোগীর স্বজনেরা এটিকে দাঁড়াশ সাপের কামড় বলে জানান। সে অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তবে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন হতে পারে। হাসপাতালের প্রোটোকল অনুযায়ী, অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর রোগীকে এখানে ভর্তি রেখে চিকিৎসা না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বজনেরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন এবং তারাই আগেই রেফার করার অনুরোধ করেন। পরে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও সংরক্ষিত রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠছে, সাপে কাটা একজন রোগীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরবর্তী চিকিৎসার মধ্যে সময় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরিবারের অভিযোগ এবং চিকিৎসকের বক্তব্য—দুই পক্ষের তথ্য যাচাই করে দেখা প্রয়োজন, ঠিক কোন পর্যায়ে কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কী পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছিল।

তারিফের মৃত্যুতে পরিবার হারিয়েছে তাদের সন্তানকে। সহপাঠীরা হারিয়েছে একজন বন্ধুকে। আর এই ঘটনা সামনে এনে দিয়েছে ধামরাইয়ের সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও রোগী রেফার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

পরিবার বলছে, তারা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করতে চায় না। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং ভবিষ্যতে সাপে কাটা বা অন্য কোনো সংকটাপন্ন রোগী যেন চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে মূল্যবান সময় হারিয়ে না ফেলেন।

তারিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে কী ঘটেছিল এবং কোথাও চিকিৎসায় বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা এখন জরুরি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -