নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্ঘটনায় পা ভেঙে পঙ্গুত্ববরণ করার পর আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ। ঘরে খাবার নেই, মাথার ওপরের ভিটেটুকুও হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা এক মা। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর দুইটার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাঙা অটোরিকশাটি নিয়ে অবস্থান করছিলেন মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত জাহানারা বেগম। সন্তানকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হেরে গিয়ে এখন তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছেন।
সংসারের অবহেলা ও ভাঙনের শিকার হয়ে জীবনসংগ্রামের তাগিদে সন্তানকে নিয়ে ঢাকা শহরে আসেন জাহানারা বেগম। শুরুতে একটি সেলাই মেশিন কিনে দর্জি কাজ করে তিন বছর ভালোই চলছিল তাঁর সংসার। কিন্তু হঠাৎ মারাত্মক চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চার মাস শয্যাশায়ী থাকেন তিনি। এ সময় কাজ বন্ধ থাকায় চার মাসের বকেয়া ঘর ভাড়া দিতে গিয়ে শেষ সম্বল ৩০ হাজার টাকা মূল্যের সেলাই মেশিনটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
এরপর অস্ত্রোপচারের (সিজার) কারণে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ভারী কাজ বা গৃহপরিচারিকার কাজ করা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। সীমিত পুঁজিতে পান-সিগারেট বিক্রি করে সন্তানের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার মাসিক ৪ হাজার টাকা এবং ঘর ভাড়া জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে জীবনযুদ্ধে টিকতে এক অটোচালকের সহযোগিতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো শেখেন এবং ঋণে একটি রিকশা জোগাড় করেন।
তবে সে লড়াইও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত পরশুদিন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে একটি দ্রুতগামী গাড়ি পেছন থেকে তাঁর অটোরিকশাকে মারাত্মক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশা উল্টে গিয়ে জাহানারার পা ভেঙে যায় এবং হাতে গুরুতর আঘাত পান। পা ফুলে যাওয়ায় তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না।
আজ প্রেস ক্লাবের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, “আজ তিন দিন ধইরা আমার খাওয়া-দাওয়া নাই। ঢাকায় আমার কেউ নাই, কার কাছে গিয়ে বলব আমাকে চিকিৎসা করান বা খাবার দেন? সকাল থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়ে ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসে মাথা ঘুরে ঢলে পড়েছি। ২৫ তারিখে ঘর ভাড়া দিতে না পারলে বাড়িওয়ালা তালা লাগিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।”
ভাঙা পা আর অনাহারে দিন কাটানো এই মায়ের একমাত্র স্বপ্ন—সন্তানকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করা। তিনি কাতর কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার চাওয়া, এ দেশে অনেক ধনী মানুষ আছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও যদি একটু সাহায্য মেলে, তবে আমার সন্তানটাকে মানুষ করতে পারব।”
বর্তমানে জাহানারা বেগম রাজধানীর লালবাগের ছাতা মসজিদের কাছে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁকে চিকিৎসা বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে চাইলে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৯৪২৯৯১৮৩৫) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

