মোহাম্মদ ইয়াসিন,আশুলিয়া : ঢাকার আশুলিয়ায় চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া লেগুনা চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।এ সময় চুরি হওয়া লেগুনাটি উদ্ধার করা হয়।
রবিবার(২০সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃতরিকুল ইসলাম পিপিএম।
এর আগে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন (৩৭) ২০২৪ সালের ৩০ মে একটি পুরোনো লেগুনা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনেন। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৮০২১। কেনার পর থেকে ওই লেগুনা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি।
প্রায় দুই মাস আগে লেগুনাটি ভাড়ায় চালানোর জন্য আরাফাত হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের কাছে দেন সোহাগ। এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আরাফাত প্রতিদিনের মতো আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার লিয়াকতের লেগুনা গ্যারেজ থেকে গাড়িটি নিয়ে বের হন। নির্ধারিত সময় পার হলেও গাড়িটি ফেরত না আসায় মালিক তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে আরাফাতের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে খোঁজ করেও গাড়িটির কোনো সন্ধান পাননি মালিক। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, আরাফাতসহ আরও কয়েকজন পরস্পর যোগসাজশে লেগুনাটি নিয়ে গেছেন বলে তার সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দণ্ডবিধির ৩৮০/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লেগুনা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা একই সঙ্গে রংপুরের কোতোয়ালি সদর থানা এলাকা থেকে চুরি যাওয়া লেগুনাটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, চুরি করে নেওয়ার পর গাড়িটির কাঠামো পরিবর্তন করে ট্রাকে রূপান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন নিজেই।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর চুরি যাওয়া লেগুনা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, লেগুনাটি আশুলিয়া থেকে রংপুরে নেওয়া হয়েছে।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে রংপুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে অভিযানের ধারাবাহিকতায় রংপুর জেলার কোতোয়ালি সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া লেগুনাটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, লেগুনাটি সেখানে নেওয়ার পর এর বিভিন্ন অংশ কেটে কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাকে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
আশুলিয়া থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি হওয়ার পর থেকেই চুরি যাওয়া গাড়িটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করা হয়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গাড়িটির অবস্থান রংপুরে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া লেগুনাটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটির কাঠামো পরিবর্তন করে অন্য কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরি হওয়া লেগুনাটি কীভাবে আশুলিয়া থেকে রংপুরে নেওয়া হলো এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চুরি যাওয়া যানবাহন উদ্ধার এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আশুলিয়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

