নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম সচিব সভা। পাশাপাশি প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথমদিকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর প্রায় দেড় বছর ওই সরকার দায়িত্ব পালন করলেও আর কোনো সচিব সভা হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবার এ ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হলো।
সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এবারের সভার আলোচ্যসূচিতে চারটি বিষয় রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল সরকারের কার্যক্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’, সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয় এবং জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয়।
সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ কমানোর করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সরকারের এক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমদানিনির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ওই সচিব বলেন, সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণ, সরকারি ভবন ও স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন, বেসরকারি খাতকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অংশ বাড়ানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় থেকে শুরু করে উপকারভোগী নির্বাচন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সচিবদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

