নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কারিতাস বাংলাদেশ-জরুরী সাড়াদান কর্মসূচী (CB-ERP) CCODP-এর সহযোগিতায় এবং Global Affairs Canada (GAC)-এর অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের কর্মীদের জন্য কক্সবাজারের RRRC অফিসে “Refreshers Training on Safeguarding and Protection from Sexual Exploitation, Abuse and Harassment (PSEAH)” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ (১৬ ও ১৭) সেপ্টেম্বর আয়োজন করে। প্রশিক্ষণে মোট ৭২ জন অংশগ্রহণকারী দুইটি ব্যাচে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিদিন সকাল ৮:৫০টা থেকে বিকেল ৫:০০টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রধান অতিথি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ( আরআরআরসি) কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তুলে ধরেন । তিনি সেফগার্ডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ধর্ম, ভাষা ও পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের সহায়তায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমার যেন কারও ক্ষতির কারণ না হই। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানকারী সকল সংস্থাকে দৈনন্দিন কাজে এসব নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুসরণ করার আহবান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের উপ- সচিব নাজমুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, “আমাদের সকলকে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে কাজ করতে হবে। সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহণকারী উভয়ের জন্যই এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর, কারণ এটি আমাদের কাজে সেফগার্ডিং আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। সেফগার্ডিংয়ের মান বজায় রাখতে সরকারি নিয়ম, মূল্যবোধ ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণও ভালো রাখতে হবে, কারণ আমাদের আচরণ ও ব্যক্তিত্ব একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।”
এছাড়াও প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন, আরআরসি কার্যালয় কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী সচিব নওশের ইবনে হালিম।
ইআরপি প্রকল্প পরিচালক মি. লিটন গমেজ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেফগার্ডিংয়ের একটি ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি ফুটে তুলতে হবে। আমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে চাই এবং একইসঙ্গে আমাদের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ভাই-বোনদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই। সেফগার্ডিং নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আমরা কারিতাস বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া দিকনির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । তিনি আরআরআরসি-এর প্রতি অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এবং প্রত্যাশা করেন কারিতাস বাংলাদেশের কর্মীরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাদের দৈনন্দিন সেবা কাজে প্রয়োগ করবেন ও সবার জন্য আরও নিরাপদ, সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে সহয়তা করবেন।”
প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন CB-ERP-এর টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট-জেন্ডার অ্যান্ড ইনক্লুশন, MHPSS স্পেশালিস্ট এবং HR অফিসার। প্রশিক্ষণের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি ও জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং, প্রোটেকশন মেইনস্ট্রিমিং এবং প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তি (Disability Inclusion) সম্পর্কে ধারণা অর্জন। পাশাপাশি সেফগার্ডিং ও PSEAH, বিশেষ করে PSEAH-এর ছয়টি মূল নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা আরও শক্তিশালী করা হয়। প্রশিক্ষণে ক্যারিতাস বাংলাদেশের সেফগার্ডিং নীতিমালা ও Code of Conduct, শিশুদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় (Do’s and Don’ts), কর্মীদের দায়িত্ব এবং সেফগার্ডিং-সংক্রান্ত উদ্বেগ জানানোর উপযুক্ত রিপোর্টিং চ্যানেল সম্পর্কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যারিতাস বাংলাদেশ সেফগার্ডিং, সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি তাদের চলমান অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেন প্রকল্পের কর্মীরা তাদের কর্মসূচির আওতায় সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারেন।
আলোকিত প্রতিদিন /১৬ সেপ্টেম্বর/২০২৬/মওম

