আজ , ।   

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরব খাদ্য কর্মকর্তা ইসরাত আহমেদ পাপেল

আরো খবর

খালেদ হাসান ময়মনসিংহ:

জামালপুর, সিংহজানী এর সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা, এলএসডি (গ্রেড-১),ইসরাত আহমেদ (পাপেল)কে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ গুলোকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্মানহানিকর’ দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে ইসরাত আহমেদ বলেন, গত ১৯ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সংবাদ ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রকাশনায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে তার দাবি, এসব অভিযোগের অনেকগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ নেই এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তার কোন বক্তব্যও নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তা প্রকাশ করা যেতে পারে। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া গুরুতর অভিযোগ প্রচার করলে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি তার পরিবার ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসরাত আহমেদ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, মামলা বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা প্রয়োজন।‘দৈনিক ঐশী বাংলা’, ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’, ‘দৈনিক ঘোষণা’ ও ‘ব্রহ্মপুত্র প্রতিদিন’ কিছু ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও পোস্ট নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার দাবি, এসব প্রকাশনার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। ইসরাত আহমেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। কিন্তু তদন্তের আগেই একজন মানুষকে দোষী বানিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে ইসরাত আহমেদ বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার পারিবারিক পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানকে ব্যবহার করেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজেকে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাকরিজীবনে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অভিযোগ করা হলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। ইসরাত আহমেদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের একটি কুচক্রী গোষ্ঠী আমার কাছে অনৈতিক ভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই তাকে নিয়ে চাপ, হুমকি ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কারা এসব অপপ্রচার করছে, কী উদ্দেশ্যে করছে এবং এর পেছনে অর্থ বা অন্য কোনো প্রভাব রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাংবাদিকদের সামনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো লিখিত নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তথ্য-প্রমাণ যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসরাত আহমেদ বলেন, তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিরোধী নন। বরং তার বিরুদ্ধে সত্য কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও প্রকাশ করা হোক। তার ভাষ্য, ‘সত্য প্রকাশ হোক—আমি সেটাই চাই। কিন্তু মিথ্যা, অনুমান বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা উচিত নয়।’তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা দুর্নীতি দমন সংস্থা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ তুলে ইসরাত আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী ও সম্পাদকদের প্রতি ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও নথি যাচাই এবং তার বক্তব্য নেওয়ার অনুরোধ করেন। এদিকে ইসরাত আহমেদকে নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ভিত্তি যাচাই হলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

আলোকিত প্রতিদিন /১৪ সেপ্টেম্বর/২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -