আজ , ।   

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ৪,৩৪১ হাজি ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

আরো খবর

আলোকিত প্রতিবেদক:

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ হিসেবে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১০ জন হাজির হাতে ফেরতযোগ্য অর্থের চেক তুলে দেন ধর্মমন্ত্রী। অন্য হাজিদের অর্থ রোববারের মধ্যেই তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ধর্মমন্ত্রী জানান, মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

হাজিদের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে হাজিদের অর্থ ফেরত, অনুদান বা অন্য কোনো সহায়তার টাকা কেবল ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

তিনি জানান, এসব অর্থ পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের পিন নম্বর চাওয়া হয় না।

কেউ এ ধরনের তথ্য চাইলে তাকে প্রতারক হিসেবে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য পবিত্র এই ইবাদতকে সহজসাধ্য করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজে আগের বছরের তুলনায় বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন আরও বলেন, ২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত অর্থের তুলনায় এবার কিছুটা কম খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্যাকেজের খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি প্যাকেজ ছিল—হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ এবং হজ প্যাকেজ-৩। প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণও ভিন্ন।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ):
কাবা শরিফের কাছাকাছি হোটেল বুল্লরা আল দুররাতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন।

দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। একই সঙ্গে দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে থাকা হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।

তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা ফেরত পাবেন।

হজ প্যাকেজ-২:
এই প্যাকেজের হাজিদের মক্কা হজ মিশনসংলগ্ন ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে রাখা হয়েছিল। হোটেল লুলুয়াত আল তাওহিদে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা ফেরত পাবেন।

দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং একই সঙ্গে শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা পাবেন। তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং এর সঙ্গে শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা ফেরত পাবেন।

হোটেল রাওদাত আল শুরুকে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত পাবেন।

হোটেল মানার আল শুরুকে অবস্থানকারী হাজিরা প্রত্যেকে ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা ফেরত পাবেন।

হজ প্যাকেজ-৩:
এই প্যাকেজের হাজিদের ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে রাখা হয়েছিল। সেখানে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন। এই প্যাকেজে শর্ট প্যাকেজ বা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগকে হাজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -