আজ , ।   

আলোকিত প্রতিদিন এর সাংবাদিককে প্রাণনাশ ও  অফিসে বোমা হামলার হুমকি, ল্যাপটপ-সরঞ্জাম উধাও

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ বন্ধে চাপ ও সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির পর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘিরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ ও ভিডিও এডিটিং সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের অ্যাডমিন নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর সহকারী সম্পাদক মো. আবু তাহের গত ৫ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিডিতে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন রিফাত খান (২৪), মাহবুবুল হক সুমন (৩৭), মো. শরিফ চৌধুরী অনিক (২৫) এবং তৌহিদ আহমেদ (২৯)।

রিফাত খান, মো. আসাদুল খানের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার নিকুঞ্জ এবং স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা গ্রাম। অভিযোগে তাকে ঘিওর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বাংলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির শিক্ষার্থী বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

মাহবুবুল হক সুমন (৩৭), মৃত অ্যাডভোকেট সামসুল হকের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা মোহাম্মদপুর, ঢাকা এবং স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া গ্রাম। জিডিতে তাকে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. শরিফ চৌধুরী অনিক (২৫) দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর সাবেক ভিডিও এডিটর। পিতা মো. বাবুল চৌধুরী। বর্তমান ঠিকানা: দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার এলাকা এবং স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মালই এলাকার জিনোদপুর বাজার রোডে।

অন্যদিকে তৌহিদ আহমেদ (২৯), পিতা কাইয়ুম উদ্দিন শেখ। তার স্থায়ী ঠিকানা রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা, ভবদিয়া এলাকায়।

সংবাদ প্রকাশের পর হুমকি:
জিডিতে সাংবাদিক আবু তাহের অভিযোগ করেন, পত্রিকার সম্পাদকের নির্দেশে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশের পর থেকেই রিফাত খান, মাহবুবুল হক সুমনের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। প্রকাশিত সংবাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য রিফাত খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর আগে গত ২৯ জুন এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল ।

গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রিফাত খান ও মাহবুবুল হক সুমনের নেতৃত্বে ১০-১১ জন মাস্ক পরিহিত ব্যক্তি দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর ২২ ইন্দিরা রোডের কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নেয়। তারা সাংবাদিক আবু তাহেরের পথরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং পূর্বের জিডি প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওই সময় তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

ল্যাপটপ-ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জিডিতে বলা হয়েছে, দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর সাবেক ভিডিও এডিটর মো. শরিফ চৌধুরী অনিক (২৫) প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ল্যাপটপ ও ভিডিও এডিটিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম কোনো অনুমতি ছাড়াই অফিস থেকে নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও সংবাদ প্রকাশের কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

শুধু সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নয়, শরিফ চৌধুরী অনিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাডমিন অ্যাকসেস পরিবর্তন করা হয়। এর ফলে সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

অফিসের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ঘটনাটি সাধারণ চুরির অভিযোগের বাইরেও অননুমোদিত ডিজিটাল প্রবেশ, অ্যাকসেস পরিবর্তন ও সাইবার অপরাধের সম্ভাব্য দিক সামনে নিয়ে এসেছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, কারা কীভাবে অ্যাডমিন অ্যাকসেস পরিবর্তন করেছে এবং ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোথায় রয়েছে তা প্রযুক্তিগত ও আইনগত তদন্তের প্রমান পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে মো. শরিফ চৌধুরী অনিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফের হামলার আশঙ্কা:
সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নতুন করে তাদের অফিসে হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ। এ কারণে তিনি নিজের এবং সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ধারাবাহিক হুমকি, অস্ত্র প্রদর্শন, পথরোধ, অফিসের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের কারণে তিনি ও তার সহকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় করা জিডিতে অভিযোগগুলোর তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং সাংবাদিক ও সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

- Advertisement -
- Advertisement -