আজ , ।   

সংসদ কার্যকর থাকলে রাজপথে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: জহির উদ্দিন স্বপন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় সংসদ যখন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সংসদীয় বিতর্ক অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বিবেচনা করে এ ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছে, তা বলা কঠিন। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি অপেক্ষায় থাকে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদী চর্চা, ভঙ্গুর সামাজিক কাঠামো এবং দুর্বল অর্থনীতির গভীর সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার নতুন গতিমুখ নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, সংকটের গভীরতা এত বেশি ছিল যে রাতারাতি কোনো জাদুকরি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দেশকে এখন সংকটে পড়তে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া শুধু দুর্নীতির বিষয় নয়, এটি জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণার শামিল। তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার শুধু সংকটের কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান এবং দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃত্রিম ও কেবল ভাষণনির্ভর সমালোচনা না করে কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া হলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহির চর্চাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটির যৌথ আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -