দৈনিক ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর অফিশিয়াল ল্যাপটপ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং কোটি পাঠকের যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল সুপরিকল্পিতভাবে চুরি ও হাইজ্যাক করে চম্পট দিয়েছেন সাবেক ভিডিও এডিটর মো: শরিফ চৌধুরী অনিক। এই নজিরবিহীন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের ঘটনায় তার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে মদদ জুগিয়েছেন রিফাত এবং তৌহিদ আহমেদ। প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি আত্মসাৎ, সাইবার নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন এবং চরম বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে শরিফ চৌধুরী অনিক, রিফাত ও তৌহিদ আহমেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আইনি প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো: শরিফ চৌধুরী অনিক বেশ কিছু দিন ধরে ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এ ভিডিও এডিটর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের কাজের সুবিধার্থে তাকে একটি দাপ্তরিক ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ভিডিও এডিটিং সরঞ্জাম দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি কোনো প্রকার আগাম লিখিত নোটিশ বা নিয়মমাফিক অব্যাহতিপত্র জমা না দিয়েই তিনি হঠাৎ অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। তদন্তে উঠে আসে, এই পুরো চক্রান্তের পেছনে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন রিফাত ও তৌহিদ আহমেদ।
পরবর্তীতে কার্যালয় থেকে অনিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এর পরপরই দেখা যায়, অনিক তার সহযোগী রিফাত ও তৌহিদ আহমেদের সাথে যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মূল প্রাতিষ্ঠানিক এক্সেস বেআইনিভাবে পরিবর্তন করে পেজ ও চ্যানেল দুটিকে গায়েব করে দিয়েছেন। একই সাথে অফিসে ব্যবহারের জন্য দেওয়া ল্যাপটপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সরঞ্জামাদি বুঝিয়ে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উধাও হন।
চাকরি ছাড়ার সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ না করে প্রাতিষ্ঠানিক ল্যাপটপ নিজের কাছে রেখে দেওয়া সরাসরি চুরির সামিল। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের অ্যাডমিন এক্সেস কেড়ে নিয়ে তা বন্ধ বা হাইজ্যাক করা বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির অধীনে একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি সম্পদের ক্ষতিসাধন ও এক্সেস ব্লক করায় প্রধান অভিযুক্ত অনিকের পাশাপাশি রিফাত ও তৌহিদ আহমেদ সমানভাবে অপরাধের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত হচ্ছেন।
ঘটনার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে ‘আলোকিত প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ নিশ্চিত করেছে যে, চুরি হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী ও তার সহযোগীদের আইনানুগ শাস্তি দিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করা হচ্ছে।
একই সাথে, সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহায়তায় হাইজ্যাক হওয়া ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনিক, রিফাত ও তৌহিদ আহমেদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় রেজিস্টার্ড লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে যৌথ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।
‘আলোকিত প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে জানানো যাচ্ছে যে, মো: শরিফ চৌধুরী অনিক, রিফাত কিংবা তৌহিদ আহমেদ বর্তমানে এই পত্রিকার কোনো পদের সঙ্গেই যুক্ত নন। তাদের কেউ পত্রিকার প্রতিনিধিত্ব করার কোনো বৈধ ক্ষমতা রাখেন না।
ফেরারি ও চক্রান্তকারী এই তিন ব্যক্তির সাথে ‘আলোকিত প্রতিদিন’ এর নাম ব্যবহার করে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক চুক্তি বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। কেউ তাদের সাথে কোনো লেনদেন করলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ তাকেই বহন করতে হবে; এতে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।

