আজ , ।   

আয়ুব খানের কুমীর শিকার

আরো খবর

মনিরুল হক: উপরোক্ত শিরোনামে ক্যাপটেন আব্দুস সাত্তার নামে এক লেখকের একটি রম্য রচনা পড়েছিলাম অনেকদিন আগে।লেখাটি হঠাৎ করে মনে হলো এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে অনেকটা মিল পাওয়া যায় বলেই পাঠকের সাথে শেয়ার করলাম। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রিসিডেনট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আয়ুব খানকে নিয়ে অনেক গল্প চালু ছিল।সাত্তার সাহেবের লেখাটাও সেই ধরনের।তখন পুর্ব পাকিস্তানের(বর্তমান বাংলাদেশ)গভর্নর ছিল আব্দুল মোনায়েম খান।তার প্রধান কাজ ছিল সব সময় আয়ুব খানকে তেল মেরে গদি ঠিক রাখা।ষাটের দশকে একবার আয়ুব খান তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানে সফরে আসেন।মোনায়েম খান খুবই টেনশনে কি ভাবে প্রভুকে খুশী করা যায়! আয়ুব খান মিলিটারী মানুষ খেয়ালী এবং মেজাজী সবার উপর অসীম ক্ষমতাবান!

তিনি সরকারী কাজ কর্মের তদারকির মাঝে গভর্নর মোনায়েম খানকে একান্তে ডেকে বললেন যে তিনি এবার কুমীর শিকার করবেন।মোনায়েম খানের মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ল। কারন বাংলাদেশ নদীর দেশ হলেও সব নদীতে কুমীর দেখা যায়না।একমাত্র সুন্দর বনের আশ পাশের নদী গুলোতে মাঝে মাঝে দু একটা কুমীর দেখা যায়।কিন্তু আয়ুব খানের সফরের সময় সে গুলো ভেসে উঠবে কিনা এবং তিনি শিকার করতে পারবেন কিনা সে বিষয় নিশ্চিত করে কিছু বলা যায়না। কুমীর শিকার করতে না পারলে মোনায়েম খানের গদি টিকবে কিনা সে বিষয়ে তার সন্দেহ আছে।মোনায়েম খান ও কম ঘাঘু মাল না ময়মনসিং জেলায় ওকালতি করতো।কিছু বজ্জাত ইয়ার দোস্তদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করলো।

তারা বলল বিষয়টি নিয়ে এত ভাবনার কিছু নাই।একটি কুমীরকে আগে ভাগেই শিকার করে পানিতে ভাসিয়ে রাখার ব্যবস্হা করো তারপর শিকারের উছিলায় স্পিড বোটকে সেই ভাসানো জায়গার বেশ দুর থেকে যাতে অায়ুব খানের নজরে পড়ে সেই ব্যবস্হা করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।আয়ুব খান বন্দুকদিয়ে কুমীরকে গুলি করবে।কুমীরতো ফিট করাই আছে।অব্যর্থ নিশানা সব  পক্ষই খুশী! এই ভাবে মোনায়েম খান সুন্দর বনের কাছে পশুর নদীতে মড়া কুমীরকে ভাসিয়ে রেখে আয়ুব খানের মকছুদ পুরন করে। কিন্তু আয়ুব খান ছিলেন ঘুঘু তিনি সমস্ত ব্যপারটা যে সাজানো তা আগে ভাগেই বুঝতে পেরেছিলেন! যাবার আগে বলল গভর্নর ছায়েব ইয়ে প্রোজেকট কে লিয়ে আপ বহুত তাকলিফ কিয়া!

আমাদের দেশেও এখন এই কালচার চালু আছে।বসকে খুশী করার জন্য সবাই পেরেশান! আমলারা সারাক্ষন ব্যস্ত কি ভাবে মন্ত্রীকে খুশী করবেন।ছোট মন্ত্রী বড় মন্ত্রী কেউ কোন এলাকায় ভিজিটে গেলে যেখানে যেখানে তিনি যাবেন সেই সব এলাকা ঘসা মাজা করে একবারে ফিট ফাট করে তোলেন আর সব এলাকার খানা খন্দ সাবেক হাল বহাল!

আলোকিত প্রতিদিন /২৯ আগস্ট ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -