নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনের যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি থাকবে, তা কীভাবে সমাধান ও মেরামত করা যায়—তা নিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে নির্দেশনা এবং তিনি যেভাবে গাইড করবেন সেটি আমরা সাংগঠনিক স্তরে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন,দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ক্ষেত্রে যেভাবে নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা দেবেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করব।
২৩ আগস্ট রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিদ্যমান ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তা সাংগঠনিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ থাকবে না। এমন পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আমাদের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। তবে পদ হারালেই কেউ বিদায় নিচ্ছেন না; বরং পদোন্নতি দিয়ে তাদের ওপরের পদে বা মূল দলে আনা হবে।এই ধারা নিশ্চিত ও চলমান রাখাই হবে আমার প্রধান প্রচেষ্টা।
চলমান গ্যাস সংকট এবং জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে দিয়ে এই সরকার যে জায়গাটি নির্মাণ করেছেন, সেটি হল আস্থা। জনগণের প্রতি নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী। সেটি সুচারুভাবে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর, নিরলসভাবে।
তিনি বলেন, কিছু কিছু সংকট তৈরি হয়েছে, যার জন্য সরকার বা অন্য কেউ দায়ী নয়; এগুলো মূলত প্রাকৃতিক এবং পরিস্থিতির সৃষ্টি। বিশ্বপরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়ায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। ফলে কয়েকদিন কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ির চুলা জ্বালাতেও সংকট দেখা দেয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত পরশু মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এলএনজিবাহী কার্গো এসে পৌঁছেছে এবং গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমে যাওয়া গ্যাসের চাপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং লোডশেডিং লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে। সরকার আন্তরিক ও জনকল্যাণে মনোনিবেশ করলে সাফল্য আসে—তারেক রহমানের সরকার তা আবারও প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণভিত্তিক, জনকল্যাণমুখী এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকারী সরকার। সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে বর্তমান সরকার যেভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করছে, অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে তার কোনো নজির ছিল না। তখন মেগা প্রজেক্টের নামে ভয়াবহ মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আজ প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে। একটি জনবান্ধব ও দায়বদ্ধ সরকার যে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তারেক রহমানের সরকার আজ তা প্রমাণ করছে। গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আলোকিত প্রতিদিন /২৩আগস্ট ২০২৬/মওম

