আবু সায়েম: “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।
মঙ্গলবার ( ১৮ আগষ্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শামীম আরা বেগম স্বপ্না।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্ত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে শহীদ দৌলত ময়দান বৃক্ষমেলা পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। যারা বনের আশেপাশে বসবাস করে তাদের বৃক্ষরোপণে আরো উৎসাহিত করতে হবে, তাদের চারা বিতরণ করতে হবে। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেশি করে বৃক্ষরোপণ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন,বৃক্ষরোপনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।ছাত্রছাত্রীসহ সকলকে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে হবে।বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরো বেশি সচেতন হতে হবে ও গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে একমাত্র গাছ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে গাছের দরকার।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ আঙিনায় চারা রোপণ করে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপনের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসম্য বিদ্যমানে অবদান রাখতে হবে।আমাদের সকলকে বৃক্ষরোপন করতে হবে এবং কোন কারণ ছাড়া গাছ কর্তন বন্ধ করতে হবে।বেশী বেশী চারা রোপন করে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ,গাছপালা পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বনজ ও ফলদ গাছ পুষ্টি জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরো বলেন, বৃক্ষমেলার ব্যাপারে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আপনারা প্রত্যেকে নিজ আঙ্গিনায়,বাসার ছাদে গাছ লাগাবেন। তাহলে আমাদের এই বৃক্ষমেলার আয়োজন সফল ও স্বার্থক হবে।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন,পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর সহকারী পরিচালক মাহমুদ পাশা, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম, উত্তর বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক শীতল পাল,জেলা শিক্ষা অফিসার মো: গোলাম মোস্তফাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নার্সারি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে,এবারের বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলায় ৩৮ টি স্টল অংশ গ্রহণ করে। বৃক্ষ মেলায় ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী জাতের লক্ষাধিক চারার সমাহার ঘটবে।মেলায় নানা ধরনের চারা স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে,প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বনজ, ফলদ,ঔষধি এবং আরো নানা জাতের চারা পাওয়া যাবে। আগামী ২৪ আগষ্ট বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

