স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই স্বপ্নের মতো শুরু করেছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের পাশাপাশি দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনেই এমন পারফরম্যান্স পেয়েছে বাংলাদেশ, যা তাদের পেসারদের কাছ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশিত হয়ে উঠেছে।
টসে হেরে প্রথমে বোলিং করতে নামা বাংলাদেশের হয়ে দিনের সেরা বোলার ছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচে পরিণত করে তিনি নিজের পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেন। এরপর চা বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৮৯। শেষ পর্যন্ত ১০৯ বলে ৭১ রান করেন স্মিথ। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। অস্ট্রেলিয়াকে আরও বড় ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা করেন তিনিই।
হাসানের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। দুজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ইনিংসে প্রতিপক্ষের সব ১০ উইকেটই পেলেন পেসাররা। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে এমন কীর্তি হয়েছিল। সেই ম্যাচেও পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান।
ডারউইনের উইকেটে বল কিছুটা নড়াচড়া করায় বাংলাদেশের তিন পেসারই ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন।
পঞ্চম উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ৫৫ রানের জুটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে কয়েকটি বাউন্ডারি এলেও পরে বাংলাদেশের বোলাররা রান আটকে দেন এবং দ্রুত উইকেট তুলে নিতে শুরু করেন।
এরপর দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বিউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরে সামান্য সুইং করা বলটি ব্যাটারের বাইরের কানায় না লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে নয় রানে ক্যাচে পরিণত করেন হাসান। পরের ওভারেই একইভাবে মিচেল স্টার্ককেও ফিরিয়ে দেন তিনি।
দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন হাসান। ওয়েদারাল্ড বাইরে থাকা বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন। এর আগে একই ধরনের বলের সঙ্গে দ্রুত ভেতরে ঢোকা বল মিলিয়ে তাঁকে বারবার বিভ্রান্ত করেছিলেন হাসান। হেডকে ফিরিয়ে দেন উইকেটের চারপাশ থেকে করা আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে। নিজের ইনিংসের প্রথমবারের মতো চাপে পড়ে বলের কানায় লেগে সেটি তাঁর স্টাম্পে আঘাত করে।
এবাদতও ব্যাটারদের খুব বেশি সুযোগ দেননি। মার্নাস লাবুশেনকে অল্প রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় স্লিপে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে লাবুশেনকে ফেরান।
প্রথম সেশনও বাংলাদেশের দখলেই ছিল। তাসকিন আহমেদের বলে ক্যামেরন গ্রিনকে মিডউইকেটে ক্যাচে পরিণত করেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ ক্ষিপ্রতায় মাটির কাছ থেকে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন তিনি। ফলে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

