আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে নতুন পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে নতুন চুক্তি না হলেও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সংঘাতের অবসানে রাজি হতে পারেন তিনি। এর বিনিময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করার শর্ত দিতে পারে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরটি রোববার (৯ আগস্ট) প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি ছাড়াও যুদ্ধ থেকে সরে আসার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা ও সংঘাতের অবসানের অন্যতম প্রধান শর্ত হতে পারে।
তবে বিনা শর্তে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি নয় ইরান। প্রণালিটি পুনরায় সচল করার বিনিময়ে তেহরান বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে।
এসব দাবির মধ্যে রয়েছে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এসব শর্ত থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে তেহরান দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু জলপথ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের বাণিজ্য এ পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়েরও চেষ্টা করা হয়।
তবে ওয়াশিংটন এসব বিধিনিষেধ মেনে নেয়নি। হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানের টোল আরোপের চেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে পুরোপুরি খুলে গেছে। তবে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দেশটিতে পেট্রলের দাম এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে এগিয়ে আসছে। ফলে সামরিক অভিযান থেকে কী অর্জন হয়েছে, তা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা গেলে সেটিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই পথেই ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তির দাবি থেকে সরে আসার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

