আজ , ।   

ম্যানেজিং কমিটির হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা, সরকারের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের বর্তমান ব্যবস্থা আর থাকছে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এর আওতায় সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রত্যয়নপত্র দেওয়া।

এ জন্য ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজনের বিধান রয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে এনটিআরসিএ মূলত নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজই করবে। ২০১৫ সালের পর থেকে যে প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে, সেটি আর অব্যাহত থাকবে না।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত সংস্থাটি মূলত শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে নিয়োগের সুপারিশ করার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন বলে কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন কিংবা জারি করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই নতুন নিয়োগ পদ্ধতি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও প্রত্যয়নপত্রধারী প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ আর সুপারিশ করবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি নিজেদের প্রক্রিয়ায় শিক্ষক বাছাই ও নিয়োগ দেবে।

নতুন পদ্ধতি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম প্রায় এক দশক সংস্থাটি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন ও সনদ প্রদানের কাজ করে।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার কার্যক্রম শুরু হয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ পর্যন্ত এনটিআরসিএ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -