আজ , ।   

বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বিরোধী দল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে। তিনি বলেন, জনগণের মেজরিটি ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হলে তখন বিরোধী দলের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারের মাঝে চা-ঘর (চায়ের দোকান) হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, তারাও সেই ভাষায় কথা বলছে—করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।’

প্রশাসনের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে এত বড় একটি ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ গঠনের সুযোগ এসেছে। তার দাবি, ফ্যাসিস্ট সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা এবং ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে সেই পরিস্থিতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তবে এত দ্রুত সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ‘আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই’—মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতেও দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে।

তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশে নতুন করে কোনো গ্যাস ও তেলের খনি অনুসন্ধান করেনি এবং বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তেল-গ্যাসের কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য টেন্ডারও হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস আমদানিতে বাংলাদেশের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরবরাহ কিছুটা কমলেও দেশে চরম সংকট দেখা দেয়নি। বর্তমানে যে সংকট রয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত চার-পাঁচ মাসে দেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলছে, সেটি গণতন্ত্রের ভাষা নয়। আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাব, দেশ চালাব। সেটিতে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তখন আপনারা বলবেন—দেশ চালাতে পারেননি। কাজ করার আগেই আপনারা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দিই, জনগণের প্রতিনিধিকে কাজ করতে দিই। তাহলে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব। উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। এক-দুই দিনে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয় না।’

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকরা অনেক কিছু লিখতে না পারলেও এখন সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছেন।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সংসদে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকরা পত্রিকায় স্বাধীনভাবে লিখতে পারছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসব নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমরা জনগণের কাছে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ক্ষমতাকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।

লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।

আলোচনা সভা শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা-দোকানের ঘর হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -