আজ , ।   

বকশীগঞ্জে পাটের উৎপাদন আশাব্যঞ্জক-ন্যায্যমূল্যের অপেক্ষায় কৃষক

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি, জামালপুর :

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মুখে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় এ বছর পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে আরও কিছুটা দাম বাড়লে কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর এবং ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কোথাও পাট কাটা, কোথাও জাগ দেওয়া, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জে মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টরের পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে এ বছর প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি থাকলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারদর নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। সার, শ্রমিক এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই বলছেন, বর্তমান দামে খরচ উঠলেও প্রত্যাশিত মুনাফা মিলবে না।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, “এবার পাটের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। রোগবালাইও তেমন হয় নাই। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে। দাম আরও বাড়লে কৃষকরা বেশি উপকৃত হবেন।”

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, “পাট চাষে শ্রম অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কিছুটা বাড়লে কৃষকরা ন্যায্য মুনাফা পাবেন এবং আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষে উৎসাহিত হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ এবং ফলন দুটিই সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও নির্বিঘ্নে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতভাবে পান, তাহলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট বিক্রি শুরু হয়েছে। মানভেদে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে  আছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম আরও বাড়লে তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য মিলবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। উন্নতমানের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি সহায়তা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। ফলে কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে  আমাদেরদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’।

আলোকিত প্রতিদিন /০৬ আগস্ট ২০২৬/মওম 

- Advertisement -
- Advertisement -