নিজস্ব প্রতিবেদক :
সর্বোচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আগের সব ডিএজি ও এএজির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সই করেন সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২’-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পূর্ববর্তী নিয়োগ বাতিল করে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগের ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সর্বোচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৬৯ জন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একাধিক আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে ৮ আগস্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
পরে একই বছরের ১৩ আগস্ট মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং মোহাম্মদ অনীক রুশদ হককে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ৬৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ২৩ জুন জামায়াতপন্থি পরিচয়ে ১৮ জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
পদত্যাগের সময় তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে রাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়োগের আগে সেখানে ৯৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২১৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক তিনবারের সম্পাদক।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

