শওকত আলী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত তিনদিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ এখনো কাটেনি। সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তারা। ফলে ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর থেকে অনেক দোকানপাট সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক জনজীবনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। বিশেষ করে রাত নামলেই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাই বর্তমানে অধিকাংশ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে হাদিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন এটি হত্যা আবার কেউ কেউ বলছেন হৃদরোগ জনিত মৃত্যু। হাদিম মৃত্যুর ঘটনাকালীন সময়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা শফিক জানান, আমি হাদিম মিয়াকে কালিকচ্ছ বাজারের প্রধান সড়ক হতে দৌড়ে পশ্চিম দিকে বাজারের ভিতরে যেতে দেখি এবং অল্প কিছুক্ষণ পরে আমিও বাজারে ভিতরে গেলে দেখতে পাই হাদিম মিয়াকে একটি হোটেলের ভিতরে মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে এবং তার মুখ দিয়ে রক্ত বমি হচ্ছে। এমতাবস্থায় বাজারের দোকানী আশরাফুল ও ফারুককে দিয়ে খাদিমকে সরাইল সদর হাসপাতালে প্রেরন করি । কিন্তু গাড়িতে তোলার সময় হাতিমের দেহে আঘাত জনিত কোন রক্ত আমার চোখে পড়েনি।
এদিকে নিহত হাদিম মিয়ার হত্যার ঘটনায় এক পক্ষের ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনায় অপর পক্ষের দায়ের করা মামলায় কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকায় দুই গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মামলার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় অনেক নিরপরাধ মানুষকেও হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার দিন সিলেটে একটি প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও তিনি হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
তাছাড়া আসমাউল ইসলাম ওরুফে সাগর মৃধা ঘটনার দিন হবিগঞ্জ বিআরটিএ তে ব্যবসায়িক কাজে অবস্হান করা সত্ত্বেও তিনিও হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন।ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে আশরাফুল, জুনায়েদ ও ফারুককে গ্রেফতার করা হলেও ফারুক বাজারের নাইটগার্ড হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।আর আশরাফুল ১১ দিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

