স্টাফ রিপোর্টার:
আলোকিত প্রতিদিনের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, অস্ত্র প্রদর্শন করে জিডি প্রত্যাহারের চাপ এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে ইয়াবা সম্রাট ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা রিফাত ও সুমন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ আবু তাহের পেশায় একজন সাংবাদিক (সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন), এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মোঃ আবু তাহের অভিযোগে উল্লেখ করেন, পত্রিকার সম্পাদকের নির্দেশে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে হুমকি শুরু হয়। ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুইজন অভিযুক্তসহ তাদের গ্রুপের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তারা হলেন-
১) রিফাত খান (২৪), পিতা মোঃ আসাদুল খান; বর্তমান ঠিকানা নিকুঞ্জ, ঢাকা এবং স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার কুস্তা গ্রাম। তিনি ঘিওর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
২) মাহবুবুল হক সুমন (৩৭), পিতা মৃত সামসুল হক; স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া গ্রাম এবং বর্তমান ঠিকানা মোহাম্মদপুর, ঢাকা। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১১ জন ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যাদের দেখলে শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানান ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ২০২৪ জুলাই ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় উত্তরা, মহাখালী, মিরপুর-১০ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তারা আত্মগোপনে থেকে আবার আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্তরা বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনাও করছে। তিনি জানান, রিফাত খানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭২৮৪৪৯৫৯১ ও ০১৫৮১৪১২২৮১)-এ হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয় এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বলেন, “আমাদের এখন সময় খারাপ, না হলে তোরে খাইয়া ফালাইতাম! শেখ হাসিনা দেশে আসবে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা কর।”
এ ঘটনার পর গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রিফাত খান ও মাহবুবুল হক সুমনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১০/১১ জন ব্যক্তি তার কর্মস্থলের নিচে মুখে মাস্ক পরে অবস্থান নেয় এবং তার পথরোধ করে। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে জিডি প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং হুমকি দেয়, “যদি তুই জিডি না তুলে নেস, এবং আমাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা বন্ধ না করিস তাহলে তোকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবো।” বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেকোনো সময় তার ওপর সশস্ত্র হামলা, অপহরণ বা হত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তারা নিয়মিত মাদকসেবন (ইয়াবা) ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে রিফাত খান তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার হতে রিফাত খান ইয়াবা সংগ্রহ করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাপ্লাই দিয়ে আওয়ামীলীগের পক্ষে মিছিল-মিটিং করাচ্ছেন।
উল্লেখ থাকে যে, রিফাত খান ঢাকা বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের লাঞ্চিত হয়ে বর্তমানে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, উত্তরায় ভর্তি হয়ে সুমনের সহযোগীতায় ছাত্রলীগের রাজনীতি উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী তার আবেদনে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেও অফিসার ইনচার্জ ও তদন্ততকারী কর্মকর্তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এফআইআর হিসেবে গণ্য করেননি। অজ্ঞাত কারণে আসামীদের গ্রেফতার করেননি।
এপি/ এম এ

