আজ , ।   

ভোট দিতে পুরুষ গড়ে ৪৮ সেকেন্ড ও নারী ৫৮ সেকেন্ড সময় পাবেন!

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে মোট সময় ৯ ঘণ্টা নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে একটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোটার উপস্থিত হলে এতে ভোট দিতে গড়ে একজন পুরুষ ৫৪ সেকেন্ড ও একজন নারী ৬৪.৮ সেকেন্ড সময় পাবেন। কমিশন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছে ইসি। এ নির্বাচন সামনে রেখে এবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট, খসড়া তালিকার ওপর দাবি বা আপত্তি গ্রহণের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট, প্রাপ্ত দাবি বা আপত্তির নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৩ আগস্ট এবং ২৭ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায়, জেলা পরিষদ বাদে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে স্থাপন করতে বলা হয়। ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫-এর সর্বশেষ সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখের অন্যূন ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্ত করার বিধান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিমিত্ত ভোটার এলাকার নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখপূর্বক ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকার ওপর দাবি বা আপত্তি গ্রহণ ও দাবি বা আপত্তিগুলো ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পন্ন করে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে স্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভবনের অবকাঠামোর অভ্যন্তরে ভোটকক্ষ স্থাপন করা গেলে সে ক্ষেত্রে অস্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব পরিহারপূর্বক ভোটকেন্দ্রের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে ইসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তপশিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপিও জমা দিতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগের মতো গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ভোটকক্ষে আগে যেখানে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকত, সেখানে এখন প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভোটারদের চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজনে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে। সংশোধিত নীতিমালায় ভোট গ্রহণের তারিখের অন্যূন ১৫ দিন আগে এর স্থলে অন্যূন ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটকক্ষ করতে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়। ভোটার বাড়ানোয় ব্যয় অনেকটা কমবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনটি ব্যালট থাকে। এতে নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণে সমস্যা হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে সমস্যা হবে না। কারণ আমরা ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেব। ভোট গ্রহণ শুরুর আগে ৩০ মিনিট এবং ভোট গ্রহণের শেষের দিকে ৩০ মিনিট করে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আশা করি এতে সমস্যা হবে না।

ভোট গ্রহণের মোট সময় ৯ ঘণ্টা ধরা হলে এবং শতভাগ ভোটার উপস্থিত হলে এতে ভোট দিতে গড়ে একজন পুরুষ ৫৪ সেকেন্ড ও একজন নারী ৬৪.৮ সেকেন্ড সময় পাবেন।

সময় বাড়ানোর বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, শীতের সময় সন্ধ্যার পর কাউন্টিং হলে তো মুশকিল। সন্ধ্যার পর কাউন্টিং হলে ইলেকট্রিসিটির সমস্যা হতে পারে। যদি ম্যানেজেবল হয়, তাহলে তো ভালোই পয়সা বাঁচল, কিন্তু এ আলোকে এত সংখ্যক নিয়ে তো ইলেকশন আসলে আগে হয়নি। যদি এটা ম্যানেজ করতে পারে, ভালো মতন নির্বাচন হয়ে যায়। তাহলে তো ভালো, সরকারের অনেক পয়সা কমে গেল, বেঁচে গেল। কিন্তু আবার যদি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় তাহলে সমস্যা। সময় বাড়িয়ে দিলে সবাই একসঙ্গে না এসে মানুষ যদি ধাপে ধাপে আসে সকালের দিকে এলো, দুপুরে এলো, বিকেলে আসে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ভোটকক্ষে ৪০০ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ করায় দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বিচ্ছৃঙ্খলা তৈরির শঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘুরছে

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের (সদস্য) শিক্ষাগত যোগ্যতার ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। এতে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী যোগ্যতায় এইচএসসি এবং মেম্বার পদে প্রার্থী হতে এসএসসি পাস হতে হবে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ইসি কর্মকর্তাদের কাছেও খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -