আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বুধবার রাতের অভিযানে ইরানের সামরিক এবং অবকাঠামোগত ৯০টি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।গত মঙ্গলবার রাতে ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল সেন্টকোম।
৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক এবং অবকাঠামোকগত স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, উপকূল অঞ্চলে নজরদারী স্থাপনা ও সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ডিপো, নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো।”
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গত ৫ জুলাই শনিবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় আইএরজিসি। সেই হামলার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে সেন্টকোম।
মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় আইআরজিসি।

এই হামলা এবং পাল্টা হামলার মধ্যেই গতকাল বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন— ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উক্তির পরেই বুধবার দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা করে সেন্টকোম।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশটির তিন সমুদ্রবন্দর বন্দর আব্বাস, কোনারক এবং চাবাহারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর আব্বাস ইরানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যত স্থাপনা রয়েছে, প্রায় সবগুলোতে হামলা হয়েছে।
সমুদ্রবন্দরের পাশপাশি দক্ষিণ ইরানের ইরানশাহর শহরে একটি বিমানবন্দর এবং উত্তর ইরানের আক্কালা শহরের একটি রেলসেতুতে আঘাত হেনেছে সেন্টকোম। মার্কিন বাহিনীর নিক্ষিপ্ত বোমায় ইরানশাহর বিমানবন্দরের একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সেন্টকমের এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড বাহিনী এই হামলা পরিচালনা করেছে। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্যায্য হামলা পরিচালনার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।”
সূত্র : সিএনএন
আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জুলাই ২০২৬/মওম

