আজ , ।   

নেত্রকোনায় নবজাতকের মরদে*হ উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন, ধর্ষক আট*ক

আরো খবর

শহীদুল ইসলাম রুবেল,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় কালিহর নদীতে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ভেসে ওঠা এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বেরিয়ে আসে শিশু ধর্ষণের তথ্য, আটক হয় ধর্ষক।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে আরও জানা যায়, প্রতিবেশীর ধর্ষণের শিকার হয়ে ১২ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা সন্তান প্রসব করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ধর্ষক সাজন মিয়া (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দুপুরে পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের কালিহর নদীতে ইট ও প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি নবজাতক কন্যা শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার এসআই মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজুর পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে কোনাকালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আসামি সাজন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই নৃশংস ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি সাজন মিয়া পেশায় একজন কৃষক। ভিকটিম শিশুর মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করার কারণে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে আনুমানিক সাত মাস পূর্বে সকালের দিকে সাজন মিয়া ঘরে একা পেয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই-তিন দিন পর পর প্রতিনিয়ত তাকে ধর্ষণ করতে থাকে, যার ফলে ১২ বছরের ওই শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বয়সে ছোট এবং শারীরিক গঠন কম হওয়ায় প্রথম দিকে তার বাবা-মা গর্ভাবস্থার বিষয়টি টের পাননি।

গত ২৮ জুন দিবাগত রাত ১ টার দিকে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর বসত ঘরের প্রস্রাবখানার পাশে একটি মৃত কন্যা শিশু প্রসব করে ভিকটিম। পরে বিষয়টি তার মাকে জানালে এবং সাজন মিয়ার ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে, ভিকটিমের মা সাজন মিয়াকে ডেকে আনেন। সাজন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভিকটিম ও তার পরিবারকে নানা ভয়ভীতি দেখায় তিনি।

পরবর্তীতে ঘটনা লুকাতে সাজন মিয়ার দেওয়া একটি কালো শার্ট দিয়ে নবজাতকের মরদেহটি পেঁচিয়ে এবং রশি দিয়ে একটি ইট বেঁধে ২৯ জুন ভোরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, আসামি সাজন মিয়ার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণের অপরাধে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামীকাল আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -