বিশেষ প্রতিনিধি: নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।
আজ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং পিজিআর সদরদপ্তরে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। তাই একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রেখেছে। পিজিআরের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন প্রশংসনীয়।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সাইবার যুদ্ধসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাহস, সততা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কখনও হুমকির মুখে পড়বে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালনও পিজিআরের অন্যতম কর্তব্য। এসব দায়িত্ব পালনে সদস্যদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা বাহিনীটিকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

