সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজা কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর হত্যার দায়ে চাচা মো. নুরনবীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ৩০ জুন মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি নুরনবী আদালতেউ পস্থিত ছিলেন। দণ্ডিত মো. নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের আতাউর রহমান ও মোছা. লুৎফা বেগমের ছেলে। নিহত শিশু আরাফ একইএলাকার পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার রাসেলের ছেলে এবং মামলার বাদী মো. নাসির উদ্দিনের নাতি। মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তি পণের দাবিতে গোপালপুরের গাঙ্গা পাড়া এলাকা থেকে শিশু কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে কয়েক জনের সহযোগিতায় অপহরণ করেন তার চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর তার দাদা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে নুরনবী আটক হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকা থেকে আরাফের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে নুরনবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। পরে নুরনবীকে কারাগারে পাঠানো হয়।টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলিওমরাও খান দিপু জানান, শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে অপহরণের দায়ে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধের আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার অপরাধে পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি জানান, আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির ওপর আরোপিত এই অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ টাকা ভুক্তভোগী মৃত শিশুর (ডিসিস্ট) পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। উক্ত আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক এই ক্ষতি পূরণের অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন সিকদার জানান, হত্যা কান্ডের কোন প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। এছাড়া আসামী নুরনবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে না পাঠিয়ে তিন দিনে স্বীকারোক্তি আদায়ের পরে আদালতে পাঠায়। এ মামলায় উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জুন ২০২৬/মওম

