আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা: নেপথ্যে ইয়াবা সম্রাট রিফাত, এয়ারপোর্টে হামলার পরিকল্পনা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় হলেও, রাজধানীতে ছদ্মবেশে তৎপরতা চালাচ্ছে সংগঠনটির কিছু উগ্রপন্হী নেতাকর্মী। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্হানে নিষিদ্ধ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঘিওর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানের বিরুদ্ধে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর হামলা এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পরিকল্পনার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রিফাত খানের নেতৃত্বে সংবদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী রাজধানীর ইসিবি চত্বর, উত্তরা ও মহাখালী এলাকায় আত্মগোপনে থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন এবং হামলায় অংশ নেন।

পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে তিনি কৌশল পরিবর্তন করেন। প্রথমে মিরপুরের সরকারি বাংলা কলেজে ভর্তি হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পুনরায় সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে তিনি লাঞ্ছিত হয়ে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর তিনি উত্তরার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে ভর্তি হন। বর্তমানে সেখানে একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নিজের যাতায়াত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করছেন।

রিফাত খানের স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় হলেও বর্তমানে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছেন। রাজধানীতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

শুধু রাজনৈতিক অপতৎপরতাই নয়, রিফাত খানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও চোরাচালানেরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকায় নিয়ে আসছেন। শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির পর নিজের মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সাপ্লাই দিচ্ছেন। এই ইয়াবা নিজে সেবনের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি করছেন এবং নিজের রাজনৈতিক বলয় ভারী করতে অনুসারীদের ‘উপহার’ হিসেবে দিচ্ছেন।

একটি দায়িত্বশীল গোপন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রিফাত খান ও তার অনুসারীরা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিকল্পনা করছে। খুব দ্রুতই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বড় ধরনের আকস্মিক হামলা চালানোর ছক কষছে এই নিষিদ্ধ চক্রটি। দেশের প্রধান প্রবেশদ্বারে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনাকে চরম রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে রিফাত খানের দুটি ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে (০১৭২৮৪৪৯৫৯১, ০১৫৮১৪১২২৮১) যোগাযোগ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাত খান চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এই প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে তিনি বলেন:

“আমাদের এখন সময় খারাপ, না হলে তোরে খাইয়া ফালাইতাম! শেখ হাসিনা আসবে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা কর”

রিফাতের এমন উগ্র ও হুমকিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কতটা বেপরোয়া এবং পর্দার আড়ালে বড় কোনো নাশকতা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হামলাকারী, মাদক কারবারি এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই নেতার প্রকাশ্য হুমকি ও বিমানবন্দরসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রিফাত খান ও তার পুরো সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

- Advertisement -
- Advertisement -