ইউক্রেনের সঙ্গে ফের শান্তি আলোচনা শুরু করতে চান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাঙ্কোরেজ শহরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসান ইস্যুতে যত আলোচনা হয়েছে, সেসবের ভিত্তিতেই নতুন দফার শান্তি আলোচনা শুরু করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল রাজধানী মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবন ক্রেমলিনে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে ফের শান্তি আলোচনা শুরুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন পুতিন। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির থাকায় ইউক্রেন ‘সুযোগ নিচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৈঠকে পুতিন বলেন, “ইউক্রেনের সঙ্গে ফের শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তত। ইস্তাম্বুলে (ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে) সম্পাদিত চুক্তি , অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত পদ্ধতি এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফের আলোচনা শুরু হতে পারে।”
“বর্তমানে আলোচনার যে স্থবির অবস্থা চলছে, তার সুযোগ নিচ্ছে ইউক্রেন। একদিকে তারা নিজেদের জন্য অনুকূল শর্ত তৈরি করছে, অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ঘন ঘন হামলা করছে” বৈঠকে বলেন পুতিন।
ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটের সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। সেই অভিযান এখনও চলছে।
যুদ্ধের গত ৪ বছরে কয়েকবার শান্তি সংলাপে বসেছে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সরকারি প্রতিনিধিরা। প্রথমে ২০২২ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক এবং পরে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালেও তারা টানা কয়েক দিন বৈঠক করেছেন।
গত ২০২৫ সালের মে, জুন এবং জুলাই মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে তিন দফা বৈঠক হয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধাবসান চুক্তির খসড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ পয়েন্টের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ২০২৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
চলতি বছর জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতেও তিন দফা বৈঠক হয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের। প্রথম দু’টি বৈঠক হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এবং তৃতীয় বৈঠকটি হয়েছে জেনেভায়।
এসব বৈঠকে বড় কোনো ব্যাপার না ঘটলেও কিছু চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। সেসব চুক্তির ভিত্তিতেই ফের শান্তি সংলাপ শুরু করা যায় বলে মনে করছেন পুতিন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আলোকিত প্রতিদিন/২৪জুন ২০২৬/মওম

