নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) সুবর্ণ ভঞ্জের বিরুদ্ধে কৃষক হয়রানি, সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ, চরম সেচ্ছাচারিতা, দূর্ব্যবহার,অফিস সময়ে অনুপস্থিত ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতিবেদকের সাথে ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার বর্ণনা করেছেন।অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সে সময় উপস্থিত চন্দ্রগঞ্জের একজন কৃষক জানান,গত এক সপ্তাহ আগে ধান জমা দিলেও বিল পাওয়া যায় নি।এই টেবিলে গেলে বলে ওই টেবিল যান এভাবে শুধুই ঘুরপাক খাচ্ছি এক সপ্তাহ যাবত।বিলের বিষয়ে ওসি এলএসডির কাছে জানালে তিনি কোনো কথা শুনতে নারাজ।
দক্ষিণ পূর্ব এখলাশপুরের কৃষক সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই গোডাউনে ধান দেওয়ার আগে নিয়মানুযায়ী ওসি এলএসডিকে জানিয়ে নির্ধারিত তারিখে ধান নিয়ে আসি।ধান নিয়ে আসার পর থেকে নানান তালবাহানা শুরু করেন তিনি।এভাবে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলে ধানের ময়েশ্চার বেড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ধানগুলো রোদে শুকাতে দিয়ে সেখানে থাকা একটি সরকারি ফ্যান ব্যবহারকালে ওই ওসি এলএসডি ফ্যানের ব্যাকেটে লাথি মেরে ফেলে দেন।এবং খুবই খারাপ আচরণ শুরু করেন।ভুক্তভোগী সাইফুদ্দিন আহমেদ আরো জানান, ওই এক সপ্তাহে অনেকের ধান বিনা পরিক্ষায় গোডাউনে দিয়ে গেছেন। পরে জানতে পারি এখানে আগে থেকে ওসির সাথে আর্থিক যোগাযোগ না থাকলে সহজে কেউ ধান দিতে পারেনা।
শরীফ নামে আরেকজন কৃষক দাবি করে বলেন, সিরিয়াল নিয়ে গেলেও ধান দিতে পারবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটনের মৌখিক চুক্তি না হয়। নিয়মানুযায়ী কেউ আসলে তিনি সিরিয়াল দিয়ে দেন।কিন্তু আসল খেলা শুরু হয় ধান গোডাউনে নিয়ে আসার পর। লোডকৃত গাড়িতে থাকা ধান আর আনলোড করতে দেননা। এভাবে কিছু দিন চলে গেলে মানুষ বাধ্য হয়ে গোডাউনের অফিস পিয়ন এনামের মাধ্যমে ওসি এলএসডির সাথে দফারফা করতে।
এ-সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি এলএসডি সুবর্ণ ভঞ্জের সাথে যোগাযোগকালে নিজের সম্পৃক্ততা বিষয়ে অস্বীকার করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (টিসিএফ) মো: কামরুল হাসান অভিযোগের ধরন শুনে সহমত ব্যক্ত করে বলেন এমনটি হতে পারে বলে জানান ।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ডিসি ফুড) মো: আসিফ পারভেজ বলেন,আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগের আলোকে তদন্ত কমিটি করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠাব।
সুবর্ণভঞ্জ কর্তৃক হেনস্তার শিকার ক্ষুব্দ কৃষকেরা ঘটনার বিচারের দাবিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের অভ্যন্তরীন বোরো সংগ্রহের মওসুমে নোয়াখালী জেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা হল ১১২২০ মে:ট:। তন্মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গোডাউনে বরাদ্দকৃত লক্ষ্য মাত্রা ১৭৯৯ মে:ট:।কৃষক থেকে সরকার ৩৬টাকা ধরে প্রতি কেজি ধান ক্রয় করছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

