আজ মঙ্গলবার, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তালাকে#র কাগজ ছিঁড়ে ফেলে, আদালতেই স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী

আরো খবর

আলোকিত ডেস্ক: পাঁচ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই, পারিবারিক টানাপড়েন, সম্পর্কের অবনতি এবং বিচ্ছেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সবকিছুর ইতি ঘটল মাত্র কয়েক মুহূর্তে। যে আদালতে এসেছিলেন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে, সেখানেই ঘটল এক আবেগঘন ঘটনা। বিচারকের সামনেই তালাকের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী। মুহূর্তেই বদলে গেল বিচ্ছেদের গল্প, শুরু হলো নতুন করে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর এক অধ্যায়।

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি পারিবারিক আদালতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের পরিবেশে এমন মানবিক ও আবেগঘন দৃশ্য বিরল বলেই মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, ২০২০ সালে ধুমধাম আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে হয় শিখা ও সৌরভের। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। ছোটখাটো মতবিরোধ ধীরে ধীরে বড় ধরনের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে উভয়েই সিদ্ধান্ত নেন আলাদা হয়ে যাওয়ার। পরে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও করেন তারা।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। একের পর এক শুনানি, আইনজীবীদের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি এবং আদালতে নিয়মিত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে বিচ্ছেদের মামলা। এই সময়ের মধ্যে শুধু স্বামী-স্ত্রীই নয়, দুই পরিবারের সদস্যরাও মানসিক ও আর্থিকভাবে চাপে পড়েন তারা।

বিশেষ করে শিখার পরিবার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে ছিল তারা। মামলার খরচ এবং আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তার বাবা জীবনের বড় একটি সঞ্চয় ব্যয় করেন বলেও জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বিরোধ দুই পরিবারের সম্পর্ককেও তিক্ত করে তোলে।

তবে শেষ শুনানির দিন ঘটল নাটকীয় পরিবর্তন। আদালতের পরিবেশে উভয় পক্ষের মধ্যে কথোপকথনের এক পর্যায়ে জমে থাকা অভিমান গলতে শুরু করে। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন তারা। পরে সবার সামনে শিখা তালাকের নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলে স্বামীকে জড়িয়ে ধরেন।

আদালতকক্ষে উপস্থিত অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের বিরোধের পর এমন পুনর্মিলনের ঘটনা বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনা নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। কেউ বলছেন, সম্পর্কের টানাপড়েনের মাঝেও আলোচনার দরজা খোলা রাখা জরুরি। আবার কেউ মনে করছেন, কখনও কখনও ভালোবাসা ও মানবিকতার শক্তি আইনি জটিলতার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।

বিচ্ছেদের শেষ অধ্যায় লিখতে এসে নতুন করে একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নেওয়া শিখা ও সৌরভের এই গল্প এখন অনেকের কাছেই আশা, ক্ষমা এবং সম্পর্কের দ্বিতীয় সুযোগের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -