ওয়াসিম সেখ:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার এক গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগদ ৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার জামালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল দুখাই মিয়ার ছেলে মো. ফজলুল হকের মেয়ে মোছা. কুলসুম বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার গোসাইবাড়ী গ্রামের চান মিয়ার বিবাহ হয়। তাদের সংসারে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ মে দুপুর প্রায় ২টার দিকে কুলসুম বেগম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি বাড়িতে রক্ষিত নগদ ৮ লাখ টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য অলঙ্কার নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সান্তার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (৩০)-এর সঙ্গে চলে গেছেন।
মেয়ের বাবা মো. ফজলুল হক জানান, মেয়েকে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য বলা হলে তিনি জানান, তাকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও কুলসুম বেগম নাজমুল হাসানের সঙ্গে সিরাজগঞ্জে চলে এসেছিলেন। সে সময় নাজমুল তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে অজ্ঞাতস্থানে রেখে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জানা যায়, ওই টাকা থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল ক্রয় করা হয় এবং বাকি টাকা বিভিন্নভাবে খরচ করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে কুলসুম বেগমকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা উদ্ধার করে দেওয়া হয়। ওই সময় নাজমুলের মা নাজমা আক্তার ভবিষ্যতে তার ছেলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করেন। তবে সেই ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্ত নাজমুল হাসানকে গ্রেপ্তারের জন্য সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানাকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১১জুন ২০২৬/মওম

