প্রতিনিধি, বগুড়া:
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বগুড়া বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ৪ হাজার ৫০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রোন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, কারিগরি নকশা ও পরামর্শক সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)কে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় অবস্থিত বিমানবন্দরটি মূলত কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়ার পাশাপাশি জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, সবজি ও কৃষিযন্ত্রপাতি দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
এরুলিয়ার বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে উদ্যোক্তা সেলিম সরকারের মতে, অতীতেও এমন ঘোষণা এসেছে; এবার মানুষ দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি মো. সাইরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর চালু হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এতে দেশি-বিদেশি বাজারে পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গত ৭ মে বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বগুড়াতেই নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপন এবং বগুড়াকে অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

