আজ শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রামিসা ধ*র্ষণ ও হ*ত্যা মামলার রায় ৭ জুন

আরো খবর

আলোকিত প্রতিবেদক:

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন (রোববার) মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ওইদিন আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আলামত উপস্থাপন করা হয়। এতে রামিসার নিখোঁজ হওয়া, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তার বিষয়টিও আলোচিত হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একপর্যায়ে তিনি ‘ডলার’ নামের একজনের কথা উল্লেখ করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তদন্ত নথি কিংবা ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসে নতুন কোনো নাম উল্লেখ করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা বিচার বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে। তিনি আরও জানান, আদালতে দেওয়া সোহেল রানার বক্তব্য নথিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।

মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তে জব্দ করা বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

এখন রামিসার পরিবারসহ সারা দেশের মানুষের নজর আগামী ৭ জুন ঘোষিত হতে যাওয়া এই বহুল আলোচিত মামলার রায়ের দিকে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -