আজ শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমার একটা ছাওয়াল আছে, আমাকে ক্ষ*মা করে দেন স্যার: আদালতকে সোহেল

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এজলাসে তোলা হয়েছে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে। এসময় প্রধান আসামী সোহেল বলেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমাকে মাফ করে দেন স্যার।

বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের আদালতে তোলা হয়। প্রথমে বিচারক আসামিদের সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান।

এরপর তাদের কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, আমার একটা ছাওয়াল আছে আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ছিল ডলার। ওকে কেউ দেখে নাই স্যার। ওরে ধরেন স্যার। আমার পাপের শাস্তি আমারে দেন। আরেকটা কথা আমার বউও নির্দোষ। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন।

সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাও এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্যার আমি নির্দোষ। আমি কিছু করিনি।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করার আর্জি জানান। আদালত সে মোতাবেক মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এরপর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আজ বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই জানা যাবে এই মামলার রায়ের তারিখ।

গত ২৪ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সোহেল।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -