আজ বৃহস্পতিবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশের পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাবে মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউএসটিআর জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা সংক্রান্ত তদন্তের অংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার ভিত্তিতে আরোপিত কিছু শুল্ক বাতিল করার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কাঠামোয় শুল্কনীতি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয়।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন বস্ত্র ও পোশাক আমদানি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাকপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে শুল্কহার ও আমদানির সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এই প্রস্তাব এমন সময়ে এলো, যখন আগামী ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে সব পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসছে না। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জ্বালানি, রেয়ার আর্থ খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশকে শুল্কমুক্ত রাখা হবে।

প্রস্তাবিত শুল্ক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ৭ জুলাই একটি গণশুনানিরও আয়োজন করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -