শওকত আলী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামির উপস্থিতি এবং বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অনুষ্ঠানে ওই আসামিকে সরাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদারের পাশে অবস্থান করতে দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এখন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার শাহজাদাপুর এলাকার মনুরপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে শাহবাজপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতা মুন্নার নেতৃত্বে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৪০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলার ২৯ নম্বর আসামি শাহজাদাপুর গ্রামের শেখ লুলু মিয়া (পিতা: শেখ বাচ্চু মিয়া) মাদকবিরোধী সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্যও দেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে তাকে ওসি তদন্তের পাশেই দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেন।
স্থানীয়দের দাবি, অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন শেখ লুলু মিয়ার ভাই শেখ মো. মোকলেস মিয়া এবং চাচা শেখ মো. মিলন মিয়া।
এ বিষয়ে সরাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমি ওই এলাকায় প্রথম গিয়েছি। তাই আসামিকে আমি চিনিনা , কে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি—সেটা আমার জানা ছিল না। কাউকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

