আজ মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে জ্বীনের বাদশা’র ফাঁ*দে শতাধিক মানুষ, উ*ধাও ২১ লাখ টাকা

আরো খবর

ওয়াসিম সেখ:

শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো.আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপসে বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন। এছাড়া গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে নিজেকে ‘৪০০ বছর বয়সী জ্বীনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জুন মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ১ জুন মুছকান অফরিন মমতাজ (৩১) নামে এক নারী সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখান। তার কথায় বিশ্বাস করে বাদীসহ প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ওই অ্যাপসে বিনিয়োগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপসে বিনিয়োগের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে প্রথম অ্যাপসটি অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং সংশ্লিষ্ট কিছু প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি “Hamkail Moakael” নামে একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিতেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।

মুছকান অফরিন মমতাজ বলেন জ্বীনের বাদশা প্রথমে আমার এক আত্মীয়র পরিচয় আমার কাছে আসে, আমি একজন মার্কেটিং কর্মী, আমার এখানে এসে সে প্রথমে বাজার সদাই করে সাথে আমার নাম্বারটা কালেকশন করে, পরবর্তীতে ফোনে কথা হয়, একদিন আমার কাছে এসে সে বলে স্বল্প টাকায় অধিকতম আয় করা যায় আমিও লোভে পড়ে গেলাম, প্রথমে ১ হাজার টাকা দিয়ে করিয়ে প্রতি সপ্তায় ৪০০ টাকা করে দিত। আমিও কিছু মানুষকে লিড দিতাম তাদেরকেও বিষয়টা আগ্রহ করি। আমার মাধ্যমে আরো ১০০ জনের মত উদ্বুদ্ধ হয় সেখানে বিনিয়োগ করতে। আমার সাড়ে ৪ লাখ টাকা সেখানে লাগানো ছিল। আমি সহ আমার টিমের ২১ লাখ টাকা সে অ্যাপসের মাধ্যমে মেরে দিয়েছে। ইতিমধ্যে সে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে সলঙ্গায় ৫৪ ডিসি মাল জায়গা ক্রয় করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি। প্রতাক মূলত পর্দাশীল মেয়েদেরকে টার্গেট করে, যাতে করে তারা কোথাও বলতে না পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, আসামির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জুন ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -