আজ রবিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাভারে তিন সাংবাদিকের ওপর মা*দক কা*রবারিদের হা*মলা

আরো খবর

শহিদুল্লাহ সরকার:

সাভারে মাদক কারবারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম ও এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।
গতকাল শুক্রবার এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের ওপর এসব হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাসহ পেশাদার সাংবাদিকরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সাভারে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা : সাভারের রাজাশন আইচানোয়াদ্দা এলাকায় মাদক কারবার ও কারবারিদের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সেখানকার শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী শামীম বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন, ক
ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম এবং এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁদের তুলে নিয়ে আমতলা এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজে আটকে মারধর করে। ওই সময় তারা সাংবাদিকদের ব্যবহৃত গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভার পৌরসভার রাজাশন আমতলা এলাকায় এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে হামলার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা দাবি করে, হামলার সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাভার উপজেলা নেতা তৌকির ও একই সংগঠনের সাভার মডেল কলেজের সাবেক নেতা জুবায়ের গ্রুপের কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিল। জানা গেছে, মাদক কারবারি শামীমের হাত অনেক লম্বা। তার মাদকের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত। সে এলাকার উঠতি বয়সী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করছে। এ ছাড়া তার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের সখ্য রয়েছে। এ কারণে তাকে সহজে গ্রেপ্তার করা হয় না। তবে প্রশাসন চাপে পড়ে গ্রেপ্তারে বাধ্য হলে আবারও জামিনে বেরিয়ে মাদক কারবার শুরু করে শামীম। ভুক্তভোগী দেশ টিভির সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন বলেন, ‘আমরা ওই এলাকায় গিয়ে মাদকের সংবাদ সংগ্রহ করে অনেকের সঙ্গে কথা বলে মূল সড়কে চলে আসি। সেখান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের আস্তানার ছবি নিয়ে গাড়িতে ওঠার পর একজন এসে কথা বলতে চায়। এ সময় গাড়ির দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন অস্ত্রধারী আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের তুলে নিয়ে শামীমের রিকশার গ্যারেজে আটকে মারধর করে এবং সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মোবাইলসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করি আমাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। শামীম বলে—আমি পুলিশকে ফোন দিচ্ছি, তোরা মুচলেকা দিয়ে এখান থেকে যেতে পারবি। তারা আমাকে দেশি অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে, ক্যামেরাম্যান এবং স্থানীয় সাংবাদিককেও মারধর করে।’ সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, ‘মাদক কারবারিদের হামলার শিকার সাংবাদিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৩ মে ২০২৬ /মওম

- Advertisement -
- Advertisement -