নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) জন্য অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬ ঘোষণা করেছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২৬টি অফশোর ব্লকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি অগভীর সমুদ্র (শ্যালো সি) ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র (ডিপ সি) ব্লক।
শনিবার (২৩ মে) পেট্রোবাংলার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সফল দরদাতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (এমপিএসসি) ২০২৬ অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। কোম্পানিগুলো এককভাবে অথবা যৌথ উদ্যোগে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য দরপত্র জমা দিতে পারবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তিতে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মুনাফা সম্পূর্ণ বিদেশে নেওয়ার সুযোগ, কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি না থাকা, আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের সঙ্গে সমন্বিত গ্যাস মূল্য নির্ধারণ এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করের দায়ভার বহন করবে পেট্রোবাংলা।
চুক্তির আওতায় ১০০ শতাংশ কস্ট রিকভারি সুবিধা রাখা হয়েছে, যার বার্ষিক সীমা হবে ৭৫ শতাংশ। বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে শুধু টু-ডি সিসমিক জরিপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দরদাতাদের অতিরিক্ত কর্মপরিকল্পনাও জমা দিতে হবে।
যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শ্যালো সি ব্লকের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তত একটি অফশোর প্রকল্পে দৈনিক ৫ হাজার ব্যারেল তেল বা ৭৫ এমএমএসসিএফ গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর ডিপ সি ব্লকের জন্য এ অভিজ্ঞতার পরিমাণ হতে হবে দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেল তেল বা ১০০ এমএমএসসিএফ গ্যাস। পাশাপাশি নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য তথ্য প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া বিডিং ডকুমেন্ট ও প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনতে হবে ৭ হাজার মার্কিন ডলারে, যা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলার কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শ্যালো সি ব্লকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া পেট্রোবাংলার অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্রয়াধিকারের শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাজারে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি কিংবা রপ্তানি করতে পারবে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

