আজ রবিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান ইউনিসেফের

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। শনিবার (২৩ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাসহ ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত হয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা যেসব স্থান, সেখানেও তারা নিরাপদ নয়—এ বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানায় সংস্থাটি।

ইউনিসেফ আরও জানায়, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সংস্থাটি বলেছে, অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কমিউনিটি সুরক্ষা জোরদার করা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তা (মনোসামাজিক সাপোর্ট) নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা এবং শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও বিস্তার লাভ করে। তাই শিশু, পরিবার, কমিউনিটি এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নতুন ধরনের মানসিক নির্যাতনের শামিল এবং এটি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়ায়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় বা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -