আজ সোমবার, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাদক ও হানিট্র্যাপে নারীর সম্পৃক্ততা বেড়েছে

আরো খবর

আলোকিত ডেস্ক

বরিশালে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও জেলা প্রশাসনের অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , গত মঙ্গলবার (৭ মে) হিজলা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ তাসলিমা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীতে ৯৮৩ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ হানিফুর রহমান হৃদয় রিদু (৩২) ও তার স্ত্রী ফাবিহা মিনহা রেখাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গত ৩ মে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কলসগ্রাম এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা তরুণী জাহিদা বেগমকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শনিবার (৯ মে) নগরীর রসুলপুর এলাকায় অভিযানে ১ হাজার ৫৮ পিস ইয়াবা, ১.৫৮০ কেজি গাঁজা এবং নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকাসহ সোহাগী বেগমকে (২৮) গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে তল্লাশিতে তুলনামূলক শিথিলতা থাকায় মাদকচক্রগুলো তাদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে।

নারীদের ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চক্রও বরিশালে সক্রিয়। গত ৭ মার্চ নগরীর গির্জা মহল্লার একটি আবাসিক হোটেল থেকে মিলিতা দত্ত ওরফে ম্যালাইসা (২১) ও হোটেল কর্মচারী সান্টু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা সভার তথ্যে দেখা যায়, শুধু জানুয়ারি মাসেই বরিশাল মহানগরে ৩১টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫০টি মাদকসংক্রান্ত মামলা রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও প্রলোভনের কারণে নারীরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -