আজ মঙ্গলবার, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজের বিষা*ক্ত বর্জ্যের ভয়াল সাম্রাজ্য!

আরো খবর

সাব-হেড: পরিবেশ দূষণ, নদী দখল ও ভূমি কেলেঙ্কারি…

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার ধামরাইয়ে শিল্পায়নের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লি: (Akij Food & Beverage Ltd.) বছরের পর বছর ধরে বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানো, পানি দূষণ, খাল-নদী দখল এবং সরকারি ভূমি আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িয়ে পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সবুজে ঘেরা জনপদ আজ ধোঁয়া, দুর্গন্ধ আর বিষাক্ত বর্জ্যের আতঙ্কে বিপর্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে কারখানার বর্জ্য পোড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে। রাতভর জ্বলতে থাকা শিল্পবর্জ্যের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শিশু-বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, চোখ জ্বালা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দিনের আলোতে প্রশাসন বা গণমাধ্যমের নজর এড়াতে রাতকে বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ভেতরে শুরু হয় বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানোর মহোৎসব। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

শুধু বায়ুদূষণ নয়, অভিযোগ রয়েছে কারখানার দূষিত রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের খাল, জলাশয় ও কৃষিজমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে মাছ মারা যাচ্ছে, জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগের মতো ফসল ফলছে না, অনেক জমিতে উৎপাদন কমে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়।”

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ‘দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন’-এর অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে গিয়ে রাতের আঁধারে বর্জ্য পোড়ানোর একাধিক দৃশ্য, দূষিত কালো পানি নির্গমন এবং ভরাট হওয়া জলাশয়ের চিত্র দেখতে পায়। প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, “পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন দৃশ্যমান নয়? স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকেই চলছে এসব কর্মকাণ্ড।

এ বিষয়ে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লি: এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সরাসরি কথা না বলে স্টাফের মাধ্যমে ফোন রিসিভ করান। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ নদী ও পরিবেশ দূষণ , হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ১০ একর সরকারি ভূমি আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও করফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হঠাৎ করেই ফোন কেটে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ধামরাইজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে যদি পরিবেশ ধ্বংস, কৃষিজমি নষ্ট, নদী দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন করা হয়, তবে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বড় অপরাধ।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখল হওয়া সরকারি ভূমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ১০ একর সরকারি ভূমি আত্মসাৎ নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এগ্রো ফার্ম সম্প্রসারণের নামে আশপাশের সরকারি জায়গা, খালের অংশবিশেষ ও জনসাধারণের ব্যবহৃত জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্য ফেলে নদীর পানি চলাচলের পথ সংকুচিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

চলমান…

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -