আজ বুধবার, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতায় নি*হত ৪

আরো খবর

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও প্রাণহানির অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ মে ফল ঘোষণার পর রাত থেকেই কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তিন পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ভোট গণনার পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে সহিংসতায় নিহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, কর্মীদের ওপর হামলা এবং একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় খুন ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা
উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন থানার ওসি ভরত প্রসূন কর। স্থানীয়ভাবে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি বাড়ি থেকে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে তার পায়ে গুলি লাগে। একই ঘটনায় এক কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। দু’জনকেই কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙড়ে উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি-ঘনিষ্ঠদের হাতে তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল দাবি করেছে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর কর্মীরাও বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে। নিমকুড়িয়া ও বেঁওতা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা বিশেষভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

হাওড়া ও বীরভূমে প্রাণহানি
হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মী যাদব বরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বীরভূমের নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাগুলোর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বারুইপুর, কৃষ্ণনগর, বর্ধমানসহ একাধিক স্থানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় দখলের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

শিলিগুড়িতে মেয়রের ওয়ার্ডেও হামলা
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা এবং দলীয় পতাকা নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এই হামলার জন্য বিজেপি সমর্থকদের দায়ী করেছেন, যদিও বিজেপি অভিযোগ নাকচ করেছে।

মুর্শিদাবাদে গুলিবিদ্ধ সিপিএম কর্মী
মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামে এক সিপিএম কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার দায়ও তৃণমূলের ওপর চাপানো হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও পাল্টা বার্তা
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাদের কর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চলছে। তিনি দলীয় কর্মীদের ধৈর্য ধরে শক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করেছেন।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও আহ্বান
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনের কাছে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, জয়ের আনন্দে যেন কেউ কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ায়।

পরিস্থিতি এখনও অস্থির
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতা উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -