মো: রিপন মিয়া:
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি বছর চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সংরক্ষণ সংকটের কারণে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা দূর করতে এবার আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কুরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চামড়া খাতসহ সার্বিক শিল্প উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ কারখানা পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে, যা এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং শিল্প খাতে গতি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুরবানির পর সাতদিন চামড়া পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
মসজিদ ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।
এআইভিত্তিক সাপ্লাই চেইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার তদারকি জোরদার করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে।
সংরক্ষণ, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকিতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বন্ধ চিনিকল চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মতো বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দেওয়া এসব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে সরকার। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে মূল্য ব্যবধান কমবে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়।
এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, পাশাপাশি সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং লিফলেট বিতরণ করা হবে। কুরবানির পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চামড়ার অপচয় কমে এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়।
সবশেষে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রশাসন ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
আলোকিত প্রতিদিন /০৫ মে ২০২৬ /মওম

