নোয়াখালী প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নিজ জেলা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালী। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে আগামীতে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী।এসময় নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করা ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা শহরে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে তারা। এ সময় সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে । এতে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম অভিযোগ করে বলেন, “নাসির উদ্দিন নাসির তার নিজের পকেট বাহিনী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করেছেন। গত ১৭ বছর যাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়নি, যারা একদিনও জেল খাটেননি, তাদের এই কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।”
নাসির উদ্দিন নাসিরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াসিম আরও বলেন, “নাসির আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, তার বাবা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার। তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে আমাদের প্রাণের দল ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর ঘটেনি। একজন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে সরাসরি উপজেলার নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা উপজেলা পর্যায়ে যোগ্য ছিলেন, তাদের জেলা কমিটিতে নামকাওয়াস্তে পদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ১৭ বছর এই মাইজদী শহরের রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। আজ ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মাথায় আমাদের সরিয়ে দিয়ে নিজের লোক সেট করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এক নেতার এক পদ নীতিতে বিশ্বাস করে কখনো জেলা কমিটিতে ঢুকিনি। কিন্তু আজ আমাদের কর্মীদের আমাদের সমমর্যাদার পদ দিয়ে আমাদের অপমান করা হয়েছে।”
বিক্ষুব্ধ নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে তারা এই অনিয়মের বিচার চান। যদি অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটিগুলো বাতিল করে ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন করা না হয়, তবে তারা নোয়াখালীতে হরতালসহ যেকোনো কঠোর গণকর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।
পরে বঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা বিক্ষোভ শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও জেলা কমিটির একাধিক নেতা পদত্যাগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রকি, নোয়াখালী কলেজের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত শুভ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিজভী, তারেক নূর, হৃদয়সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

