নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের নামপরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। অন্য ৪ জনের নামপরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার রামিন (৪০) ও একই এলাকার আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার রাজা মিয়া (৪৫)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ও ট্রাক—উভয় চালকই পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

