আলোকিত প্রতিবেদক:
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ রোববার (৩ মে) অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৩ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষে মীর আহমেদ আলী সালাম শুনানি করেন, তবে আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত শেষে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।
অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদ এসব অবৈধ সম্পদ গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এখন পর্যন্ত বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকলেও মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

