নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস এবং অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন করছে ডিএমপি। এর অংশ হিসেবে অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা, চেকপোস্ট স্থাপন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে কাজ করছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
মো. সরওয়ার জানান, কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল ও অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসির যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলেও জানান তিনি। গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং বড় মাদক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের পেছনের গডফাদারদের শনাক্ত করে মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে বসিলা ও কারওয়ান বাজার এলাকায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজও চলছে, যাতে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।
ডিএমপি কমিশনার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা চাঁদাবাজি, মাদক, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা প্রভাব নয়, অপরাধই মুখ্য বিবেচ্য। চাঁদাবাজদের পক্ষে তদবিরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অপরাধীকে ছাড়াতে তদবির করে, তাকেও অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং নতুনভাবে শনাক্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী রাজধানীর বাইরে পালালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা তুলনামূলক কম হলেও মাঝারি পর্যায়ের কিছু অপরাধী সক্রিয় রয়েছে, যাদের ওপর নজরদারি চলছে। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন ও নতুন থানা গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

